Friday, January 5, 2007

তুমি যদি চাও বৃষ্টি হবে আজ



মেয়েটার নামটা অদ্ভুত! এত কিউট দেখতে একটা মেয়ে, নামটা কেমন বিচ্ছিরি! জানিনা ওর নিজের দেশে এটা কোন রোমাণ্টিক নাম কি না। ছিপছিপে, শুকনা পাতলা, ক্ষিনাঙ্গী। দারুন একটা স্নিগ্ধতা আছে মেয়েটার মধ্যে, কেমন যেন মৃদু বৃষ্টিতে ভেজার মত একটা ব্যাপার। ওকে দেখলে, বা ওর কথা ভাবলেই আমার হাবিব সাহেবের একটা গান মনে পড়ে যায়:

"তুমি যদি চাও, বৃষ্টি হবে আজ,
এই রাতে আকাশের বুকে।
তুমি যদি চাও তবে জোছনা রবে,
চাঁদ জেগে রয় মেঘেরও ফাঁকে।
এলোমেলো মন ভাবে শুধু তোমাকে আজ..."

কিন্তু এই মেয়েটাকে নিয়ে ফ্যাণ্টাসাইজ করতে গেলে ওর নাম ধরে ডাকাটা বেশ মুশকিল হয়ে যায়। এরকম বিদঘূটে একটা নামে কাউকে রোমাণ্টিক হয়ে আদুরে গলায় ডাকা যায়! নতুন একটা নাম বের করতে হবে ওর জন্য।

কদিন আগে ও ওর আগের গাড়িটা বদলে নতুন একটা কিনলো। কি ব্যাপার? না, আগেরটা নাকি ওর লাক ফেভার করছিলো না! আগের গাড়িটার রংটা এত সুন্দর ছিলো! কেমন যেন স্বপ্ন স্বপ্ন একটা নীল! আমার একটা ফ্যাণ্টাসী ছিলো ওকে আর ওর গাড়ির রংটা নিয়ে, যেখানে আমি ওকে বলছিলাম যে ওই নীল রংটা ওর ব্যক্তিত্বের সাথে বেশ মানিয়ে যায় - কেমন একটা শান্তিময় পরিশুদ্ধ নিস্তব্ধতার মত... like a pastoral calm...

কাল যখন লাঞ্চে গেলাম ওর সাথে, ঠিক ওইরকম নীল রং এর একটা টপ, আর কালো একটা স্কার্ট পরা ছিলো... এত শুকনা মেয়েটা! কথা প্রসঙ্গে ইভল আই-এর কথা আসাতে বললো, ও মাঝে মাঝে ওরকম একটা গলায় পড়ে, কিন্তু সেদিন পরেনি, কারণ সেদিন ও ইভল আই-এর কাছাকাছি রং-এর অন্য একটা সেট পড়েছে। গলায় আঙ্গুল দিয়ে দেখালো সেটা। গলার চেইনটা অনেক লম্বা ছিলো, তাইতে ওর পাতলা বালিকাসুলভ বুকের নিষিদ্ধ স্নিগ্ধতার দিকে সম্পূর্ণ আইনানুগ ভাবে দৃষ্টি দেয়া গেলো। গলায় আর কানে একই হালকা নীল ঘন নীল কম্বিনেশনের স্পাইরাল ডিজাইনের জিনিস, প্রায় ইভল আই-এর মতই দেখতে। কোন পূর্ণাঙ্গীনি হলে ওই নীল লকেটটা ঝুলে থাকতো ঠিক ক্লিভেজ নামের উপত্যকায়, যদিও ওর সেসবের বালাই নেই।

তবে এই মেয়েটার সৌন্দর্যকে পুরোপুরি উপভোগ করতে গেলে ওর শরীরি বর্ণনায় সেটা বোঝানো যাবে না। কি যেন একটা আছে ওর অ্যাপিয়ারেন্সের মধ্যে...

অদ্ভুত একটা মায়া,
একটা কোমলতা,
একটা নারীত্ব
আর মায়াবী একটা হাসি।

এই কোমলতাটা আর শান্তিময়তাটা এই দেশে থাকা মেয়েদের মধ্যে একদম দেখি না।
আর এটাই ওকে অন্যরকম ভালো লাগায় ।
ওর সোনালী কালো ঢেউ খেলানো চুলে হাত বুলাতে ইচ্ছে হয়।
নরম করে ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে হয় ওর মসৃন পাতলা চিবুকটা।
নাকের বাদামী জড়ুলটা।
নিবিড় করে বুকে জড়িয়ে নিতে ইচ্ছে হয় ওর হুল ওঠানো সোয়েটার পড়া পাতলা শরীর।

যেহেতু আমার অফিস থেকে ক্যাফেটেরিয়াতে যেতে হলে ওর অফিসটা পথেই পড়ে, সঙ্গত কারণেই ইদানিং আমার ক্যাফেটেরিয়াতে যাওয়া বেড়ে গেছে - দিনে তিন-চার বার, সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে ডায়েট কোক খাওয়া - দ্বিগুনেরও বেশী! কারণ আমি তো ওখানে লাঞ্চ বা ব্রেকফাস্ট খাই না - বার বার যেতে হলে ডায়েট কোকই সবচাইতে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাপার। ব্যাপারটা কাজেও দেয়! কারণ ওর সাথে তো প্রায় প্রতিদিনই দেখা হয়ে যাচ্ছে!

No comments: